ধর্ষণ শেষে তরুণীকে কুপিয়ে জখম, যুবকের যাবজ্জীবন

অর্থনীতি আইন আদালত আন্তর্জাতিক ইসলামিক খেলাধুলা জাতীয় ধর্ষণ বিনোদন রাজনীতি সারাদেশ

বরগুনায় তরুণীকে ধর্ষণ শেষে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে নদীতে ফেলে দেয়ার অভিযোগে শাহিন নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান। একই সঙ্গে কুপিয়ে জখম করার অপরাধে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাহিন বরগুনা পৌরসভার টাউন হল সড়কের মৃত সফিজ উদ্দিন আহমেদের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, বরগুনার লাকুরতলা গ্রামের আব্দুল বারেকের ১৫ বছরের মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শাহিন গোপনে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে। বাদীর সন্দেহ হলে তার মেয়েকে শাহিনের সঙ্গে মেলামেশা করতে নিষেধ করেন।

একপর্যায়ে বাদীর মেয়ে ঘটনার আগের দিন ২০০৮ সালের ৩০ মে কুয়াকাটা থেকে সকাল ১০টায় বরগুনা টাউন হলের সামনে আসলে আসামি শাহিনের সঙ্গে দেখা হয়। শাহিন বাদীর মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় যেতে চায়। এতে বাদীর মেয়েও রাজি হয়ে যায়। ঘটনার দিন ৩১ মে রাত ৯টায় শাহিন একটি মোটরসাইকেলে বাদীর মেয়েকে নিয়ে যায়।

শাহিন বাদীর মেয়েকে ঢাকায় না নিয়ে পশ্চিম ধুপতি ইটভাটার পাশে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে হত্যার উদ্দেশ্যে তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে অজ্ঞান করে। পরে একটি ধারালো মাছ কাটার বঁটি দিয়ে ভিকটিমের বিশেষ অঙ্গে, গলায়, হাতে ও বুকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। ওই তরুণী মারা গেছে ভেবে ধর্ষক শাহিন খাকদোন নদীর পাড়ে ফেলে দেয়।

ওই তরুণী অজ্ঞান অবস্থায় সারারাত নদীর পাড়ে পড়ে থাকে। পরদিন সকালে ওই তরুণীর মা নদীর পাড়ে গেলে তাকে অর্ধমৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ মামলাটি তদন্ত করে বরগুনা থানার এসআই নুরুল ইসলাম ২০০৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর নারী ও নির্যাতন আইনের ৯(১) ও দণ্ডবিধি আইনের ৩২৬ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এ মামলার সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আশরাফুল আলম যুগান্তরকে বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। ধর্ষণ করে কুপিয়ে হত্যা করতে চেয়েছিল আসামি শাহিন। একটি যুগান্তকারী রায় হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল ওয়াসিম মতিন বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা আপিল করব। তিনি আরও বলেন, এ মামলায় প্রথমে ভিকটিম সাক্ষী দিয়ে বলেছেন, শাহিনকে তিনি চেনেন না। পরবর্তীতে আবার সাক্ষী দিয়ে একটি গল্প বলেছেন আসামির বিরুদ্ধে। আমরা হাইকোর্টে আপিল করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *