সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তারেক জিয়ার মেয়ের কাছেই পরাজিত হবে হাসিনাঃইশরাক

রাজনীতি

সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চেয়েছে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)।
রবিবার (২৫ এপ্রিল) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্তজা ও মহাসচিব মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এবং করোনাকালীন এই গভীর সংকটে দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া উচিত। তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ থেকে করোনা আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। আগের চেয়ে ভালো আছেন। করোনা আক্রান্ত হওয়ায় ১৭ দিন পার হয়ে ১৮ দিন চলছে। তাঁর এখন আরও উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।
তারা বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা, তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা, বঙ্গবন্ধুর এই জন্ম শতবার্ষিকীর এই মহতী সময়ে দেশের জ্যেষ্ঠ নাগরিক হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন পাওয়ার অধিকার রাখেন। কোনও কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনও ঘটনা ঘটলে এর দায় সরকার ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কোনোভাবে এড়াতে পারবেন না।
এনডিপি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দেশবাসীসহ বিশ্ববাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং গত শুক্রবার বাদ জুমা উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টর জামে মসজিদে বেগম জিয়ার সুস্থতার জন্য বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি এনডিপির এই অংশটি আগে ২০ দলীয় জোটের শরীক দল ছিল। ২০১৮ সালে নির্বাচনের আগে তারা সরকারের সাথে আঁতাত করে ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে গিয়ে বি-চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফন্টে যোগ দেয়।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফারেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ আদালতের রায়ে ৫ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে খালেদা জিয়ার কারাবাস শুরু হয়। এক বছরেরও বেশি সময় নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি জীবন অতিবাহিত হয় তাঁর। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসার জন্য তাঁকে নিয়ে আসা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কেবিন ব্লকের প্রিজন সেলে।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফারেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর প্রথম এক বছরে অন্যান্য মামলায় হাজিরার জন্য বিভিন্ন সময়ে বেগম জিয়াকে ৯ বার আদালতে হাজির করা হয়। এর মধ্যে নাইকো দুর্নীতি মামলায় হাজিরার জন্য পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে ৭ বার এবং গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় হাজিরার জন্য বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার-৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে ২ বার হাজির করা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে।
কারাবাসের প্রথম বছরে বেগম জিয়াকে চিকিৎসার জন্য তিনবার বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নেয়া হয়। এর মধ্যে ২০১৮ সালের ৭ এপ্রিল, একই বছরের ৬ অক্টোবর এবং ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল তাঁকে হাসপাতালে নেয়া হয়। আগের দু’বার হাসপাতাল থেকে কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হলেও শেষবার অর্থাৎ ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল থেকে পরবর্তী প্রায় ১১ মাস বিএসএমএমইউ হাসপাতালে কারা নজরদারিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন খালেদা জিয়া।
এরপর ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১-এর উপধারা ১ ধারা অনুযায়ী বয়স বিবেচনায় মানবিক কারণে সরকারের নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিত করে ৬ মাসের জন্য বেগম জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়া হয়। শর্ত অনুযায়ী, মুক্ত থাকাকালীন খালেদা জিয়াকে নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। তিনি কোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পাবেন না। পরিবারের লোক ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না। দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।
২ বছর ১ মাস ১৯ দিন বন্দিদশায় থাকার পর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ বিকেলে ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন মুক্তি পেয়ে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’য় যান খালেদা জিয়া। গেল বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর মুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শর্ত অপরিবর্তিত রেখে সরকার খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বৃদ্ধি করে সরকার। গত ২৪ মার্চ সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে গত ১৫ মার্চ বেগম জিয়ার দণ্ডের কার্যকারিতা আরও ৬ মাসের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাবে সায় দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
টানা তিন দফায় শর্তসাপেক্ষে পাওয়া মুক্তি নিয়ে গত ১৩ মাস ধরে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’য় থেকে চিকিৎসাধীন আছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
Please follow and like us:শেয়ার করুন
error10
Tweet 150
fb-share-icon20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *