শেখ হাসিনার জাদুকরি নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ: হাছান মাহমুদ

রাজনীতি

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাদুকরি নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। উন্নয়নের সবগুলো সূচক অর্জিত হওয়ার কারণে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে।

রোববার দুপুরে নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সব সূচকে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে, অনেক ক্ষেত্রে ভারতকেও আমরা ছাড়িয়ে গেছি। বিশ্বে এখন বাংলাদেশের নাম উচ্চারিত হয় অর্জনের জন্য, সাফল্যের জন্য।  বিদেশের পার্লামেন্টে এখন বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। বিদেশিদের কাছে এখন বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর ইমরান খান যখন বলেছিলেন আগামী দশ বছরে পাকিস্তানকে সুইডেন বানিয়ে দিবেন। তখন সে দেশের মানুষ বলেছিলেন আগামী দশ বছরে পাকিস্তানকে সুইডেন নয় বরং বাংলাদেশ বানিয়ে দিন।

তিনি বলেন, আমাদের মাথাপিছু আয় ভারতের মানুষের মাথাপিছু আয়কে ছাড়িয়ে গেছে। বিগত ১২ বছরে সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যত অর্জন হয়েছে তার সবগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে এসব অর্জন সম্ভবপর হয়েছে।

বিএনপি নেতারাসহ করোনার টিকার সমালোচকদের প্রকাশ্যে টিকা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করবেন না। তিনি বলেন- দুঃখের বিষয়, যারা বলেছিলেন টিকা আনতে পারবে না, সেই বিএনপি নেতা এবং সমালোচকরা গোপনে টিকা গ্রহণ করছেন। গোপনে টিকা না নিয়ে প্রকাশ্যে নেয়ার জন্য এবং এ ব্যাপারে জনগণকে বিভ্রান্ত না করতে তাদের প্রতি আহ্বান জানাই।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতারাসহ সরকারের সমালোচকরা করোনা শুরুর প্রথম থেকে বলে আসছে বাংলাদেশে কোটি কোটি মানুষ আক্রান্ত হবেন আর লাখ লাখ মানুষ মারা যাবেন। তারা আরও বলেছিলেন, সরকার করোনা প্রতিষেধক টিকা আনতেই পারবে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে। টিকা উৎপন্ন হওয়ার আগেই টিকা ক্রয় করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সেই টিকা বাংলাদেশে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে টিকা দেয়া অব্যাহত রয়েছে।

বিএনপি নেতারা আরও বলেছিল, করোনা পরিস্থিতিতে দেশে হাজার হাজার মানুষ অনাহারে মারা যাবে, কিন্তু সরকারের যথাযথ পদক্ষেপের কারণে গত এক বছরে একজন মানুষও অনাহারে মারা যাননি, জানান তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারা দেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে ছিলেন। যার ফলে সরকারের মন্ত্রী, এমপি, উপদেষ্টা ও কয়েক হাজার নেতাকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলাম। অথচ যারা রাজপথে সরকারের সমালোচনায় মুখর ছিল, দেশের মানুষের পাশে তারা ছিল না।

করোনা পরিস্থিতিতে যখন শ্রমিক সংকটে কৃষকরা তাদের ক্ষেতের ফসল ঘরে তুলতে পারছিল না তখন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মাঠে গিয়ে কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তুলে দিয়েছে এবং দেশে এ ধরনের নজির ইতঃপূর্বে ছিল না, স্মরণ করিয়ে দেন ড. হাছান।

তথ্যমন্ত্রী তার বক্তৃতায় যারা নিজেদের পিঠ বাঁচাতে দলে ভিড়েছেন তাদের দলে অন্তর্ভুক্ত না করে ত্যাগী এবং দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে আগামী কমিটি গঠন করতে সম্মেলনে পরামর্শ দেন।

আত্রাই উপজেলা পরিষদ মাঠে  উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নৃপেন্দ্রনাথ দত্ত দুলালের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন খাদ্যমন্ত্রী ও নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, নওগাঁ সদর আসনের এমপি ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন এবং আত্রাই-রানীনগর আসনের এমপি মো. আনোয়ার হোসেন হেলাল। সম্মেলন উদ্বোধন করেন নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মালেক।

সম্মেলনে নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা, আত্রাই উপজেলা আওয়ামী লীগ, বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন এবং উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্যায়ে নৃপেন্দ্রনাথ দত্ত দুলালকে সভাপতি ও মো. আক্কাস আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে আত্রাই উপজেলা আওয়ামী লীগের আংশিক কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়।

 

Please follow and like us:শেয়ার করুন
error10
Tweet 150
fb-share-icon20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *