আল-জাজিরার প্রতিবেদন আমার কিছু হবেনা মিথ্যা ও বানোয়াট গুজব প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়

আল জাজিরা চ্যানেলে প্রচারিত আলোচিত সেই প্রতিবেদনের বি’ষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এটা নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। কিছু বলারও নেই। কারণ, একটা চ্যানেল কী বলছে না বলছে সেটা দেশবাসীই বিচার করে দেখবে। দেশের মানুষই বিচার করে দেখবে এটা কতটুকু সত্য, কতটুকু মিথ্যা, কতটুকু বানোয়াট।

আর কী উদ্দেশ্যে তারা করছে সেটাও বড় কথা। তিনি বলেন, যু’দ্ধাপরাধীদের স’ন্তানদের ইন্ধ’ন থাকতে পারে এসব ঘ’টনায়। কেননা, তারা তো থেমে থাকবে না। তাছাড়া আওয়ামী লীগ বি’রোধিতার বি’ষয়টি তো রয়েছেই। শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তরণে জাতিংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ বি’ষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি স’ন্তান হিসেবে যখন স’রকারে আসলাম তখন কিন্তু আমি আমার বাবা-মায়ের হ’ত্যার বিচার করেছি। এই ইনডেমনিটি বাতিল করে দিয়ে এ বিচার করেছি। যু’দ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি, যারা এদেশে গণহ’ত্যা চা’লিয়েছে, না’রী ধর্ষণ করেছে, অ’গ্নিসংযোগ করেছে, লু’টপাট করেছে।

বঙ্গবন্ধু তাদের বিচার শুরু করেছিলেন। কিন্তু ৭৫-এ জাতির পিতাকে হ’ত্যার পর জিয়াউর রহমান এসে তাদের মুক্ত করে তাদেরকে মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও স’রকারের অংশিদার বানিয়েছে।এছাড়াও দু’র্নীতি, লু’টপাটের স’ঙ্গে যারা জ’ড়িত-এমন ধরনের অনেকের বিচার হয়েছে। যাদের বিচার হয়েছে, সাজাপ্রা’প্ত। তাদের দোসর, তাদের পরিবার কি চুপ করে বসে থাকবে? তাদেরও কিছু আমরা দেখি, তাদেরও কিছু ইন্ধ’ন আছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই স’ঙ্গে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অদ্ভূত মিথস্ক্রিয়া দেখা যায়-আলট্রা লেফট, আলট্রা রাইট (চ’রম বামপন্থী ও চ’রম ডানপন্থী) সময়ে সময়ে এক হয়ে যায়। আমাদের অ’পরাধটা কি সেটাই তো আমার বড় প্রশ্ন।

তিনি বলেন, স’রকার হিসেবে আমরা দেশের জন্য যেভাবে কাজ করেছি, এগিয়ে নিয়ে গিয়েছি, গত ১২ বছরের মধ্যে কী কী উন্নয়ন করেছি দেখু’ন। ২০০১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দেশের পরিস্থিতি কী ছিল তা দেখু’ন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ গতকাল স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে। আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পূর্ণ যোগ্যতা অর্জন করেছি। সমগ্র জাতির জন্য এটা অত্যন্ত আ’নন্দের এবং গর্বের।

আমাদের এই উত্তরণ এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন আমরা সর্ব কালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ’ন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি। আমরা মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের দ্বারপ্রান্তে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য এ উত্তরণ এক ঐতিহাসিক ঘ’টনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মাত্র সাড়ে তিন বছরে যু’দ্ধবি’ধ্বস্ত বাংলাদেশকে ধ্বং’সস্তূপের মধ্যে থেকে টেনে তুলে স্বল্পোন্নত দেশের কাতারে নিয়ে গিয়েছিলেন। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে তারই হাতে গড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত করলো।’

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান রাষ্ট্রের পূর্ববঙ্গ শুধু অবহেলিতই ছিল না, এখানকার সম্পদ নিয়ে গিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানকে সমৃদ্ধ করা হচ্ছিল। শতকরা ৫৬ ভাগ মানুষের জন্য ব্যয় করা হতো ২৫-৩০ ভাগ সম্পদ। আর পশ্চিম পাকিস্তানের ৪৪ শতাংশ জনগণের জন্য ৭০-৭৫ ভাগ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এই বৈষম্য এবং শোষণের বি’রুদ্ধে সর্বপ্রথম সোচ্চার হন। শুরু করেন রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলন। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে ৯ মাসের র’ক্তক্ষয়ী মুক্তিযু’দ্ধের মাধ্যমে এবং ৩০ লাখ শহীদের র’ক্তের বিনিময়ে আমরা অর্জন করি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।’

Please follow and like us:শেয়ার করুন
error10
Tweet 150
fb-share-icon20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *